ভার্চুয়াল জ্ঞান- যা আমাদের প্রত্যকের জানা জরুরী - আগামীর কিংবদন্তি
SUBTOTAL :

Follow Us

ভার্চুয়াল জ্ঞান- যা আমাদের প্রত্যকের জানা জরুরী

ভার্চুয়াল জ্ঞান- যা আমাদের প্রত্যকের জানা জরুরী

Short Description:

Product Description

আমরা এখন আধুনিক যুগে পৌছেছি, আধুনিক হয়েছি। এখন মানুষ বাস্তবে নিজেকে যতটা না প্রকাশ করতে পারে তার চেয়ে বেশি করতে পারে ভার্চুয়াল ইউনিভার্সে বা ভার্চুয়াল বিশ্বে। এখন অনেকেই জেনেও হতবোকাদের মতো উস্কানিমূলক মন্তব্য করতে পারেন, ভার্চুয়াল আবার কী? এটা আপনাদের সহজাত চারিত্রিক একটি বৈশিষ্ট। ভার্চুয়ালের বাংলা অভিধানিক অর্থ-- 'কার্যসিদ্ধ' বা 'কার্যকর ক্ষমতাসম্পন্ন'। ভার্চুয়াল হচ্ছে এমন এক ধরনের স্থান যেখানে বাস্তবের অস্থিত্ব নেই। অর্থ্যাৎ এমন এক অনুভূতির স্থান যেটা বাস্তবে নেই। অনেকেই ভার্চুয়ালকে কাল্পনিক স্থান বা কাল্পনিক বিশ্ব বলে থাকেন। ভার্চুয়ালের সংজ্ঞা এই পর্যন্তই না- হয় থাক। এখন অনেকের প্রশ্ন আমরা কেন অনলাইনকে ভার্চুয়াল বিশ্ব বলি। ইন্টারেটে ব্যবহৃত হয় কিন্তু বাস্তবে না তাই আমরা অনলাইনকে ভার্চুয়াল বিশ্ব বলে থাকি। সময় কখনো ১ সেকেন্ডের ১০০ ভাগের এক ভাগ মুহূর্তের জন্যও থামে না। গতিশীল সময়ে মানুষও গতিশীল। তাকে সময়ের সাথে সমতা রেখে চলতে হয়। সময়টা আধুনিক অর্থ্যাৎ তথ্য ও প্রযুক্তির যুগ। এখন তথ্য ও প্রযুক্তির যুগে অবশ্যই আমাদের তথ্য প্রযুক্তি নির্ভরশীল হয়েই চলতে হয়। তথ্য ও প্রযুক্তির যুগে মানুষ এখন যন্ত্রনির্ভর। এখন সবার হাতেই স্মার্টফোন--- অ্যন্ড্রয়েড, অ্যাপেল, উইনডোজ, ফায়ার ফক্স ইত্যাদি ইত্যাদি অপারেটরের। আমরা এখন বিনোদনের জন্য যতটা সময় না বন্ধু-বান্ধব বা পারিপার্শ্বিক মানুষের সাথে সময় অতিবাহিত করি তার চেয়ে বেশি সময় অতিবাহিত করি প্রযুক্তি বা যন্ত্রের সাথে। এখন প্রশ্ন যন্ত্রের সাথে সময় কাটিয়ে বিনোদন করা যায় কি? অবশ্যই যায়। আমরা যন্ত্রের মাধ্যমে সরাসরি ভার্চুয়াল বিশ্বে চলে যাই। আমরা চলি যাই বলতে আমাদের ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে যন্ত্র বা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়ালকে অনুভবের মাধ্যমে আমাদের মন চলে যায় ভার্চুয়ালে। দেহ বাস্তব বিশ্বেই থাকে। আর এটাই ভার্চুয়াল। ভার্চুয়ালে আমরা নিজেকে অনেক স্বয়ংস্ফূর্তভাবে উপস্থাপন করতে পারি। ভার্চুয়ালে মানুষের বাস্তব সম্পর্কে ধারনা করা যায়। কারণটা আগেই বর্নণা করা হয়েছে যে, মন থাকবে ভার্চুয়ালে আর দেহ বাস্তবে। তাহলে নিশ্চই আপনার মনের ভাবাবেগ ভার্চুয়ালেই প্রকাশ করবেন। তাই নয় কি? ভার্চুয়াল জগত বলতেই আমরা -- ফেসবুক, টুইটার, গুগগ+, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেন্জার ইত্যাদিকে জেনে থাকি। একবার ভাবুনতো এখনকার সময়ে এগুলো-- কত বেশি সংখ্যক মানুষই ব্যবহার করে আর কত কম সংখ্যক না। অধিকাংশ মানুষই এগুলো ব্যবহার করে থাকে যোগাযোগ মাধ্যমে হিসেবে। এখানে কেউ যদি এই ভার্চুয়াল বিশ্বের সু্ষ্ঠ ব্যবহার না করে তাহলে আমরা ভেবে নেই বাস্তবেও সে সুস্থ নয়। সুস্থ মানুষ সুষ্ঠতা, শলীনতা বজায় রাখে। সুস্থ মানুষের সুস্থতা তার বাস্তব কর্মকান্ড এবং কার্যকর ক্ষমতাসম্পন্ন স্থানে প্রকাশ পায়। বাস্তব কর্মকান্ড--- বাস্তব কার্যকর ক্ষমতাসম্পন-- ভার্চুয়াল সুতরাং, কার্যকর ক্ষমতাসম্পন স্থানে যদি আমরা বিকৃত মনের পরিচয় দেই। সেখানেও যদি নোংরামি বা অশালীনতা করি তাহলে যে কেউ কি আমাদের বাস্তবেও নোংরা মন-মানুষিকতার ভাববে না? অবশ্যই ভাববে কারণ আমাদের মন-মানুষিকতার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া আমরা ভার্চুয়ালে ফুটিয়ে তুলি। ভার্চুয়াল মনের বা অনুভূতির জগত হলে কেনইবা মনের বা মনের অনুভূতির নোংরামিগুলো ভার্চুয়ালে প্রকাশ পাবে না? সুতরাং সহজেই যে কেউ বলতে পারবে, You are bad minded। এখন যদি আপনি তাকে বলেন, কিভাবে জানলেন আমি Bad minded? সে তখন উত্তরে বলবে, তোমার ফেসবুকের পোষ্ট পড়ে বুঝলাম, গুগলেরর পোষ্ট পড়ে বুঝলাম। এখন আপনি আর কী উত্তর দিবেন? তখন আপনি কি বলবেন, আমার একাউন্ট হ্যাক হয়ে গিয়েছে? আপনার পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। কোন উত্তর থাকবে না আপনার মুখে। আর এই নিরুত্তর নিরবতা আপনার দুর্বল এবং সত্যতা যে আপনি খারাপ চরিত্রের। এই সময়টাতে বিশেষ করে ফেসবুকের পোষ্ট হতে শুরু করে মেসেজ বা কমেন্টে পর্যন্ত শালিনতা নেই। মানুষ এখন ভার্চয়্যাল ইউনিভার্সেও নোংরামি বা অশ্লীলতা শুরু করেছে। এখানে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে আমাদের নারী শ্রেণীর অনেকেই। একটা ঘটনা বলি ফেসবুক নিয়ে, আমি একটা রহস্য গল্প পোষ্ট করি সেটাতে একজন কমেন্ট করেছিলো-- ফালতু পোষ্ট, আজাইরা ইত্যাদি ইত্যাদি গালি পর্যন্ত আমাকে দিয়ে বলে বাদুড় কি চোখে দেখে? আমি হাসবো নাকি হতবোকার মন্তব্য পড়ে কাঁদবো এমন অবস্থায় ছিলাম। তারপরও তাকে বুঝিয়ে দিলাম যে, বাদুড় দিনে চোখে দেখে না তখন শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করে চলাফেরা করে। এরা নিশাচর, রাতে স্পষ্ট দেখে তবে কিছু কিছু বাদুড় যাদের আকার ছোট বা বয়স কম তারা সম্পূর্ণ স্পষ্ট দেখে না। তাকে রেফারেন্স হিসেবে একটা অনলাইন ইনফরমেশন লিংক পর্যন্ত দিলাম। এখন আমার প্রশ্ন এখানে আমরা যারা বিষয়বস্তু লেখি বা গল্প-উপন্যাস যাই লেখি না কেন, আমরা কি সেটা সম্পর্কে না জেনে, পড়াশোনা না করেই লেখে থাকি? আমি তাদের মতো হতবোকাদের একটাই কথা বলবো, সুশীলতা সব জায়গায় বজায় রাখুন। কারণ আপনার এই মন্তব্যটি হাজারো মানুষ পড়ছে, তারা আপনাকে বিনয়ী মনে করবে না। তারা আপনার চরিত্রকে ধরেই নিবে নেতিবাচক। আরেকদিন একবোন পোষ্ট করলো, তাকে ম্যাসেন্জারে যৌন-হয়রানি করা হচ্ছে। আমি তার কমেন্টে ঢুকলাম। দেখি সেখানেও তাদের খারাপ মন্তব্য দিয়ে ভর্তি। ভাবতেই ঘৃণা আসে যে সমাজে এতো নোংরা মানুষের আনাগোনা। আর তা ফেসবুক বা ভার্চুয়ালে ইউনিভার্সে না আসলে জানা যেতো না। আপনার ভার্চুয়াল বিশ্বের সুবিনস্ত পরিবেশ আপনার ব্যক্তিত্বের, আপনার সুশীল মননের বহিপ্রকাশ। তাই ফেসবুক হতে শুরু করে সকল অনলাইন বা প্রযুক্তিতে শালীনতা রক্ষা করা জরুরী। মনে রাখবেন, আপনাকেও ভার্চুয়াল বিশ্বে আপনার পরিচিত একজন আপনাকে ফলো করছে। সে যখন আপনার নোংরা মন্তব্য, আপনার নোংরা পোষ্ট বা আপনার এলোমেলো অগোছালো চটি পেইজে লাইক দেয়া একাউন্ট দেখবে তখন সে আপনার সম্পর্কে কী ধারণা নিবে? আর এই ধারনা নেয়ার জন্য তাকে আপনার সামনে সরাসরি দেখা করতে হবে না। আপনার ভার্চুয়াল বিশ্ব আপনার নিজের আন্তরিক বহিঃপ্রকাশ। তাই সময়ের সাথে সাথে নিজেকে গুছিয়ে তৈরি করে নিন। গুছিয়ে নিন আপনার ভার্চুয়াল বিশ্বটাকে। আপনাকে আপনার বাস্তবিক রুপ ভার্চুয়ালে ঠিক রাখতে হবে। আপনি একজন ভদ্র পরিবারের সন্তান এবং সুস্থ পরিবেশের বেড়ে উঠা মানুষ। আপনাকে আপনার পরিবার-পরিজন, পরিবেশ, ব্যক্তিত্ব সবকিছুই বাস্তবের মতো ভার্চুয়ালে ঠিক রাখতে হবে। অচেতন মনের অশ্লীলতা বা নেতিমূলক কর্মকান্ড শুধু বাস্তবেই নয় বাস্তবের মতো আরেক বাস্তব অর্থ্যাৎ ভার্চুয়ালেও ঠিক রাখতে হবেই হবে। তবেই আপনি আদর্শ। -
ভার্চুয়াল জ্ঞান
- মেহেদী হাসান হাসিব 

0 Reviews: